Published : 04 Aug 2026, 08:16 AM
অনলাইন জুয়া এবং ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এক বিশাল পদক্ষেপ নিয়েছে। এই চক্রগুলোর কার্যকলাপ বন্ধ করতে বিএফআইইউ প্রায় ১৪ হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএফআইইউর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)। উক্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক মাসে ইতোমধ্যে প্রায় দশ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়াও একটি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আর্থিক অপরাধীদের কার্যকলাপ স্তব্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বিএফআইইউ কর্মকর্তা আরও বলেন, যেহেতু এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা অত্যন্ত সহজ, তাই চক্রগুলো দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে, বিএফআইইউ ইতোমধ্যে এসব চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা নিশ্চিত করতে চাইছে যে জুয়ার সঙ্গে জড়িত অ্যাকাউন্টধারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নতুন কোনো এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হবে না। এর আগে, গত ২৫ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করা হয়েছে।
অনলাইন জুয়া নির্মূল করতে সরকার ১০ এপ্রিল সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করে। এই আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার জন্য কোনো পোর্টাল, অ্যাপ বা ডিভাইস তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশগ্রহণ করা, এসব কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া-সংশ্লিষ্ট প্রচার বা বিপণন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।।